ছয়
শেষমেশ দুর্বিনীত হতে হতে হতে হতে আমি
স্পর্শকাতর রাত্রির ঘ্রাণ আবিষ্কার করলাম।
যা ছিলো আসলে প্রকৃত; নিষিদ্ধ সুরের মধ্যে লীন।
পুরোনো সঙ্গীত থেকে যারা জন্ম নিয়েছিলো; তারা—
তাদের গন্ধ অনুভব করে শুধুই সুরেলা হৃদয়।
সাত
সোনালী বাতাস বইছে দ্যাখো শ্যামল অন্ধকারে
এমন নির্মল রাতে একসাথে সারিবদ্ধ মানুষগুলো
কেন চাইবে না নিজেকে বিলিয়ে দিতে বলো!
কী ক’রে তারা এতো বিষ বহন করেছে পাত্রে
আর কি বাকি আছে কিছু, বেঁচে করবার মতো?
আট
চারদিকে রোজ ঘন হয়ে ফোটা অন্ধকার পেরিয়ে
আমাকে বাড়ি ফিরতে হয়। আর এর মাঝে যদি
এরকম হতো, বাড়িটাই আসতো আমার দিকে
তাহলে এর অধিক, ঝড়-বাদলের রাতও
কী সুসজ্জিত শোভন প্রেমে কাটিয়ে দেয়া যেত!
নয়
সাপের ঝাঁপির মতো যে ঘরটিতে আমি থাকি
তার পশ্চিমে একটা আকাশমুখী জানালা আছে।
ঘরের একমাত্র যাত্রী হিসেবে আমি প্রতিদিন
সেই জানালা দিয়ে জিরাফের মতো গলা বার করি।
আমাকে বাঁচতে হয় এতো এতো সুন্দরের মাঝে।
দশ
এমন হয় না কখনও, মাঝরাতে চিঠি আসে
প্রেমিক বরাবর; আমারও এমন হয় নাই।
সবাই ঘুমালে ঘুমের আড়ালে লেখা চিঠি পড়া যায়।
বাদবাকি অসময়ে রোজ স্নানঘরে ঢুকে, অথবা
দোকানে যেতে যেতে পথে শুধু চিন্তাই করা হয়।
[আগামী শনিবার প্রকাশিত হবে তৃতীয় কিস্তি]
এই লেখকের অন্যান্য লেখা:
• সাম্য রাইয়ানের মুক্তগদ্য “রাত্রি একটা অনাহুত বেদনার নাম”
• সাম্য রাইয়ানের ‘চোখের ভেতরে হামিং বার্ড’ থেকে
• সাম্য রাইয়ানের ‘চোখের ভেতরে হামিং বার্ড’ থেকে
• সাম্য রাইয়ানের মুক্তগদ্য ‘একটা সত্যি কথা বলো’
সাম্য রাইয়ান। কবি ও গদ্যকার। জন্ম নব্বইয়ের দশকে কুড়িগ্রামে। প্রকাশিত কবিতাপুস্তিকা: ‘বিগত রাইফেলের প্রতি সমবেদনা’, ‘মার্কস যদি জানতেন’। কবিতাগ্রন্থ: ‘চোখের ভেতরে হামিং বার্ড’। পোয়েটিক ফিকশন: ‘হলুদ পাহাড়’। প্রবন্ধ: ‘সুবিমল মিশ্র প্রসঙ্গে কতিপয় নোট’। একযুগ যাবৎ সম্পাদনা করছেন ‘বিন্দু’।
0 মন্তব্যসমূহ
মন্তব্যের যাবতীয় দায়ভার মন্তব্যকারীর। সম্পাদক কোন দায় নেবে না।