TopTime

আজ বঙ্গাব্দ,

বিনয় মজুমদার, গণিতের শূন্য ও অন্যান্য কবিতা | শানু চৌধুরী


বিনয় মজুমদারের ‘আমিই গণিতের শূন্য’ বইটা হাতে পাই ২০১৪ সালে। যে কবিতার বইটা পড়ার পাঁচ বছর পর আমার হাতে আসে মাণ্ডুক্য উপনিষদ এবং এই উপনিষদ পড়তে গিয়ে আশ্চর্যভাবে চমকে উঠি কবিতার ভিতরের অবস্থাগুলিকে এই উপনিষদের সাথে মেলাতে এবং কবিতার জার্নিকে অনুধাবন করতে গিয়ে। যাত্রা বলতে আমি এখানে কনশাসনেস শব্দটিকে বোঝাতে চাইছি, অর্থাৎ সচেতন ভঙ্গি থেকে আমাদের ভিতরে ও বাইরে বয়ে চলা অবস্থানের বিষয় -আশয়। যেমন তাঁর এই বইটার ‘অনেক কিছুই আছে’ কবিতাটিতে আমি দেখতে পেয়েছি সরল কাব্যভাষার ভিতরে এক সাংকেতিক রূপ। কবিতাটি এরকম—

অনেক কিছুই আছে

অনেক কিছুই আছে যা গণিত দিয়ে
সমাধান করা অতীব কঠিন এক কাজ।
যেমন- পরমেশ নামক প্রাণীটি।
পরমেশের উপরে কোনো দেবতা আছে কি, এই
কথা গণিত দিয়ে সমাধান করা এক দুরূহ ব্যাপার।
নানান জটিলতা দেখা দেয়
গণিত দিয়ে সমাধান করার বেলায়।
এমতাবস্থায় ব্যাকরণ দিয়ে সমাধান করতে হয়।
ব্যাকরণ ব্যাকরণ পুনরায় ব্যাকরণ।

আমরা কবিতাটি পড়তে গিয়ে যদি খুব সুক্ষ্মভাবে লক্ষ করি পরমেশ শব্দটির ওপর তবে দেখব শব্দটিতে যে আঘাত পড়ছে তা ঈশ্বরের অনুসন্ধানের কারণেই। যা অদ্বৈত( non-dual)। এক দার্শনিক দৃষ্টিপাত করা প্রয়োজন তবেই চিরস্থায়ী সত্যতা (aksarsm)-র দিকে যেতে পারব। যে সত্যতা একজন শিল্পীর জগতে সর্বক্ষণ পরিক্রমা করতে থাকে। যার অভিগম্যতা মাপতে হয় প্রয়োগতত্ত্বের নিরিখে। যেখানে পরমেশ শব্দটি গণিত দিয়ে নয়, রূপ পেতে চাইছে ব্যাকরণের হাত ধরে যে ব্যাকরণ মানুষের ভিতরের রূপকে দেখায়। মাণ্ডুক্য উপনিষদে একটি টার্ম আছে sat-sit-ananda অর্থাৎ যা সৎ বা real এবং যা দুঃখের ভিতর পুঞ্জীভূত আনন্দকে ব্যক্ত করে। যা সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে, গভীরভাবে অর্থবহ হয়ে ওঠে যাপন নামের ব্যাকরণে। এই বইয়ের আরেকটি কবিতা, যার শিরোনাম ‘শব্দ শুনে’ পড়তে গিয়ে একটা অনুভব আরো দৃঢ় হয়েছে যে প্রতিটা কবিতাই আত্মতৃপ্তির নয়। অন্তত বহিঃস্থের দিক থেকে। এই বইয়ের প্রতিটা কবিতাই ভাবনাচিন্তা করার। পৃষ্ঠা নং-২৭ এর শব্দ শুনে কবিতাটি অন্তঃস্থের কথাই যে বলবে তা আমরা দেখতে পাবো।ক্রিয়াপদ সব সময় যে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর কাজ বোঝাবে এমন সম্ভাবনাকে তিনি মান্যতা দিচ্ছেন আবার ক্রিয়াপদগুলোর মাধ্যমে তিনি ব্যক্তি বা বস্তুর অবস্থানকে বুঝতে চাইছেন। State or condition-কে বুঝতে চাইছেন।

ধরা যাক, আমাদের জ্ঞানেন্দ্রিয়ের মধ্যে কান শ্রবণযন্ত্র বা শ্রবণ মাধ্যম; যা শব্দকে শুনতে সাহায্য করে। তবে সেই শব্দ ব্যক্তি বিশেষে পার্থক্য সৃষ্টি করে না কি? এক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি শব্দ সার্বজনীন এবং শ্রবণযন্ত্রটি নির্দিষ্ট যার ফলে তৈরি হয় ইংরেজি শব্দ ‘Heard’ ও ‘Listen’ শব্দদুটোর মধ্যে পার্থক্য। এই বিশেষ জাগতিক খুঁটিনাটি, প্রাকৃতিক ঘটনাগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং এই বইয়ের প্রতিটা কবিতার পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে।
আগের কবিতাটিতে আমরা ‘sat-cit-ananda’ টার্মটির sat অর্থাৎ real নিয়ে আলোচনা করেছি, কিন্তু cit? ‘cit’ হল সেই নির্যাস যা নিরাকার এবং একইসাথে consciousness substance যাকে বিষয় বা উদ্দেশ্য দিয়ে বেঁধে রাখা যায় না। ‘cit’ হল সত্তার বিকাশ যা এই ধ্বনিগত পঙক্তির ওপরেই অংশত নির্ভর করছে। নির্ভর করছে আত্মিক প্রতিক্রিয়ার ওপর।

শব্দ শুনে

শব্দ শুনে তার মানে ধ্বনি শুনে
বহু ক্রিয়াপদ বোঝা যায়। আমার পশ্চিম পাশে
শিরীষ কাগজ দিয়ে কাঠ ঘষে চলেছে কে যেন
ধ্বনি শুধু ধ্বনি শুনে এবং না দেখে
আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি কাঠে শিরীষ ঘষা ধ্বনি।
ঝাঁটা দিয়ে ঝাঁট দেবার ধ্বনি, দেশলাই জ্বালবার ধ্বনি,
তপ্ত কড়াইতে কিছু সর্ষের তেলের মধ্যে
মাছ ভাজবার ধ্বনি, ডালে সম্ভার দেবার ধ্বনি ইত্যাদি
ধ্বনি শুনে স্পষ্ট বোঝা যায়।

এই বইটির যে নামকরণ, সেই নামকরণের কবিতাটি একবার পড়া যাক—

আমিই গণিতের শূন্য

আমিই গণিতের শূন্য। গণিতের বইতে শূন্য
ছাপা হয় এইভাবে ০ - এই ছাপা শূন্য আমি।

আমার সন্তানদল, এসেছো? খোঁজ করে দেখুন
পাঠকপাঠিকাগণ ০ বিষয়ক যত তত্ত্ব পৃথিবীর
লোকে শুনেছে ও জেনেছে তার সব তত্ত্বই
একজন মাত্র লোক আমি বলেছি।

আমরা জানি শূন্য একটি whole number সেই সূত্রেই কি কবি বিনয় মজুমদার নিজের সমগ্রতার কথা বলতে চাইছেন? মাণ্ডুক্য উপনিষদের sthula-sarira (gross body)-র উল্লেখ রয়েছে যা মস্তিষ্কে তৈরি হওয়া ছবির সাথে জড়িত। এর মাঝেই ‘আমার সন্তানদল এসেছো?’ এই প্রশ্নের মাধ্যমে বুঝতে পারছি ০ থেকে শুরু করে তিনি ১,২,৩ এইভাবে এক সমগ্রতার ভিতর প্রবেশ করছেন আবার শূন্যের দিকেই ছুড়ে দিচ্ছেন সেই সমগ্রতাকে। আমরা বুঝতে পারি যে শূন্যতাই প্রকৃত অর্থে অখণ্ড রূপ। এই বিষয় থেকেই আমাদের কাছে সহজ হয়ে যায় তাঁর দর্শন মালার সম্ভার, যা প্রতিটি শিল্পের ক্ষেত্রেই নিজস্ব নিয়ম মেনে চলে। কবিতা উচ্চারণের আলো প্রকৃতপক্ষেই সামূহিক স্মৃতিকে প্রাবল্যের দিকে পৌঁছে দিতে পারে। আমরা বলতে পারি-কবিতা নিজেই সেই সচেতনতা যা অন্ধকারেও নিজের ছায়াপিণ্ডকে আলোকিত করে রাখে। 

এবার পরের কবিতার দিকে এগোনো যাক এবং দেখা যাক কি লুকিয়ে আছে আমাদের জন্য।

আমার কবিতায় আছে

আমার কবিতায় আছে ‘পৃথিবী এখন ক্রমে
ঘুমে ঢুলে পড়ে। এবং মশাও কামড়ায় মুখে।’
কবিতা এটুকুই। বুড়ো হয়ে গেছি, নারী
দেখলে আর কোনো আকর্ষণ বোধ করি না।
শুধু আশা কোনোদিন জীর্ণ বৃদ্ধ হবো।
মৃত্তিকায় পড়ে রবে বয়োত্তীর্ণ রসহীন বীজ,
উৎসুক হবে না কেউ ধ্বংসপ্রাপ্ত দেবতার শবে।
এই দেবতাটি কে?

কবি বিনয় মজুমদার এক স্বতঃস্ফূর্ত স্বীকারোক্তি করেছেন কবিতা এটুকুই বাক্যটির মধ্যে দিয়ে। পৃথিবী ঘুমে ঢুলে পড়েছে থেকে মশাও এসে কামড়ায় মুখে এই লাইনদুটির দিকে যদি লক্ষ করি তবে এক ঘুমন্ত শূন্যতা (sleeping blankness) থেকে জেগে ওঠা (waking state)-র জার্নি দেখতে পাবো, যেখানে কবি স্বয়ং তাঁর চারপাশের সকল বস্তুর প্রতি সচেতন এবং জাগরুক দৃষ্টি থেকে নিস্তব্ধতার দিকে পা বাড়াচ্ছেন সন্তর্পণে। যেখানে শরীরকে দেবতা হিসেবে বিবেচনা করে বয়োত্তীর্ণ কাল ও worldly pleasure-কে নসাৎ হয়ে যেতে দেখছেন, অথচ শেষ লাইনে ‘এই দেবতাটি কে?’ এই প্রশ্নে আত্মা (oneself)-কে উচ্চারণ করে পৌঁছতে চাইছেন একীকরণে। যেখানে যৌনতা বা কাম নয়, সময়ের সাথে  শারীরিক, মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক শাঁসকে উন্মুক্ত করেছেন। জগৎ, আক্ষরিক অর্থে যা সচল। প্রতিটি কবিতার শেষাংশে ভাবনা বা না-ভাবনার বৃত্ত-তে সে সচল। তবে ক্রিয়েটিভ আর্জ বা সৃষ্টির খিদে সেই একমাত্র চোখ যে মতামত দিতে চায় না। কোনো ধারনায় সে চটজলদি পৌঁছে যায় না। শুধু অনুভূতির অন্তঃস্থলে পাঠককে পৌঁছাতে দেয় এবং এক গভীর দ্বন্দ্বের মাঝে ফেলে দেয়।

আমি জীবনে

আমি জীবনে একটিই দারুচিনি গাছ দেখেছি।
নাগা পাহাড়ের উপরে দেখেছি।
গাছটির গাত্র থেকে বাকল তুলে নিয়েছে লোকে।
কারণ এই বাকলই দারুচিনি।
বাকল তুলে নেওয়া জায়গাগুলির রং
ঘিয়ের মতন। এই বাকল তোলা
স্থানগুলিতে নতুন বাকল তৈরি হয় কি না
তা আমি জানি না

এই কবিতাটিতে ইন্দ্রিয়লব্ধ দেখা ও জানার মধ্যে এক বিরুদ্ধ অনুভূতির প্রকাশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গাছের বাকল সরে গেলে সেই গাছটি গাছই থাকে, কেবল কিছু অংশ তাকে ছেড়ে যায়। একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা বুঝতে সুবিধে হবে। আমরা চেয়ার, টেবিল, দরজা যদি বলি তবে ওই চেয়ার বা দরজার আকৃতি গড়ে ওঠার প্রধান উপাদান কী তা পরিষ্কার হয় না। কিন্তু যদি ধরুন ‘কাঠ’ বা ‘লোহা’ যেকোনো একটি শব্দকে জুড়ে দিই তা আমরা সেই দরজা বা চেয়ার কিসের তৈরি সহজেই বুঝে নিতে পারি। অর্থাৎ আমরা বলতে পারি কাঠ বা লোহা এখানে অদ্বৈত বা নন ডুয়ালিটির চরিত্র। ঠিক সেই সূত্রেই কবি বিনয় মজুমদার তাঁর জীবন সায়াহ্নে এসে স্বগোতক্তি করছেন সে জীবনে একটিই দারুচিনি গাছ দেখেছেন নাগা পাহাড়ের ওপরে এবং গাছটির বাকল ছেড়ে দেওয়া ও তা ব্যবহারযোগ্য হওয়া দেখেছেন। ঠিক এই জায়গাতেই গাছটি একা এবং অদ্বৈত। মোহ, জ্ঞান এসব প্রতিক্রিয়ার ভিতরেও একা। যাকে আমরা চরম দশাও বলতে পারি। এরপর আমরা কবিতার শেষ লাইন ‘আমি জানি না।’ এবং মোহ শব্দটার দিকে তাকাই তবে দেখব এক “confused or deluded state of mind” যাকে ঘটনাক্রমে মোহের অভিজ্ঞতা বলা যায়। এখানে কবি গাছটি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নয়, এক প্রতিক্রিয়াকে সঞ্চারিত করতে চাইছেন বলেই মনে করি। শিল্পের গভীরের অন্তঃস্থ সদর্থকতাকে প্রকাশ করতে চাইছেন কবিতায়। যা বয়ে এসে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রমাণ করে বোধশক্তির গমন।

     এবার শেষ করবো “এখন আমরা সব” কবিতাটি দিয়ে। তবে বলে রাখি এই কবিতাগুলি পুনঃপাঠের সময় ধরতে পারছি কতটা চোরাস্রোত বইটির সব কবিতা জুড়ে। প্রতিটি কবিতায় যেন স্বেচ্ছায় প্রবেশ করছে প্রকৃতি এবং প্রচ্ছন্নভাবে সর্বদা জেগে আছে আবেদন। স্পষ্ট ছায়া কত আড়ম্বরহীনভাবে নিত্য নৈমিত্তিক বোধের জন্মকে লালন করছে সুনিশ্চিতভাবে।

এখন আমরা সব

এখন আমরা সব আলাদা আলাদা হয়ে গেছি।
শব্দ শুনে বোঝা যাচ্ছে র‍্যাঁদা দিয়ে কাঠ কাটছে
একজন। অনেক উচ্চাশা নিয়ে বাবা
পশ্চিম পাশের ওই দ্বিতীয় দালান বানিয়েছিল।
দালানের গায়ে বাবা নিজের নামটিও লিখেছিল ‘বিপিন কুটীর’।

যাইহোক শেষ অবধি আমি একা একা
বাবা মায়ের এই বাসস্থানে বাড়িতে প্রথম দালানে
আমি থাকি। চন্দন বললো ‘দাদা, আঁকা ছবিতে পাখি ডাকে।’

কবিতার প্রথম লাইনে ‘এখন আমরা সব আলাদা আলাদা হয়ে গেছি।’ এই একটি লাইন যেন প্রপঞ্চের কারনামার কথা বলে। এক নিয়মেই হয়তো আলাদা হওয়ার রীতি। পরের লাইনটি লক্ষ করলে দেখব কাঠ কাটা এক বিয়োগ সম্পর্কিত প্রসঙ্গকে তুলে আনছে কবিতায়। এভাবে কবিতার ভিতর যাত্রা করতে করতে পাখির প্রাণদান ও পারিবারিক বন্ধন বাস্তবতার আঁচ করায়। বাবার উচ্চাশা ও তাঁর আশার নীড় (বাসা)-র রূপ ধোঁয়ায় ভরে যেতে থাকে কালের কাছে একা বা টিকে থাকার মধ্যে দিয়ে। মাণ্ডুক্য উপনিষদে একটি জ্ঞানযোগ বলে একটি শব্দ আছে। যাকে আধার করে কবিতাটিকে দেখলে আমরা বিষয়টি আরো উজ্জ্বলভাবে বুঝতে পারবো। তবে জ্ঞানযোগ কী? জ্ঞানযোগ হল- “The yoga state attained through jnana(see). The state of experiencing one's own oneness with all-underlying reality with wisdom as a means.” দৃষ্টি ও অভিজ্ঞতাকেন্দ্রিক যে জ্ঞান তা আলো-ছায়া, অন্ধকার-আলো থেকে এক নৈঃশব্দে পৌঁছে যায়। এই কবিতাটিও সেইরকমই, যা এক অবিচ্ছেদ্য সমগ্র রচনা করেছে।


 লেখকের অন্যান্য লেখা: 
• নৈতিকতা বিরোধী সংখ্যায়: শানু চৌধুরীর কবিতা


শানু চৌধুরী। কবি ও গদ্যকার। জন্ম ও বেড়ে ওঠা কলকাতায়। লেখাপড়া ইংরেজি সাহিত্যে। প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ: ‘আলো ও আত্মহত্যা’ (২০১৯)।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

3 মন্তব্য

  1. সমৃদ্ধ আলোচনা। প্রশংসা করছি। অনেক কিছু জানা গেল। লেখক ও সম্পাদক উভয়কেই ধন্যবাদ।

    উত্তর দিনমুছুন
  2. বেশ একটা নতুন দিকের খোঁজ পেলাম এই লেখায় । লেখক ও প্রকাশক উভয়কেই আমার কৃতজ্ঞতা জানাই । 🙏 ।

    উত্তর দিনমুছুন
  3. অত্যন্ত মনোগ্রাহী আলোচনা। লেখকের প্রচুর পাঠাভ্যাসের ছাপ রয়েছে লেখায়। এবং বোঝাই যাচ্ছে এ লেখক মধ্যমেধার নয়।

    উত্তর দিনমুছুন

মন্তব্যের যাবতীয় দায়ভার মন্তব্যকারীর। সম্পাদক কোন দায় নেবে না।