৪১. তাঁতপর্য:
আমি শতাব্দীকাল মাটি খুঁজিতেছি
স্তনের নীচে নীচে...
একটা পায়ুকোটর : তাকে গুঁতিয়ে গুঁতিয়ে
কলকা ফোটে, কর্পূররস ভেঙে যায় খটাস্
গরুত্বপূর্ণ মাথায় বিগেলরাজ প্রাপ্তবয়স্ক আরও
৪২. অঙ্কুরোদগমন:
গাছেদের বৃক্ষচ্ছেদন ভুলে যাবে যখন
ডমরু সাপের স্বাক্ষর ব্রাশ
অনেক পরগণা খুবলে ফুলন্ত ফিডব্যাক
ই-ক্লান্ত বহরের মূকে নিয়ে বহুদূর
ধেয়ে যাবে সটীক আকছাড় জোয়ান
৪৩. ঊরুফন্দি:
আমিও উদয়ে ঝুঁকি, নিভিয়ে থামি, বর্ণসংকুল
রস চুঁয়ে চুঁয়ে, নিজেকে ঢেলে দিই মারিয়ানা ঝোপে
অতন্দ্রপ্রহরীর দেয়াল চেঁছে কী খাবো! কী পদ!
কত কী নিশির গন্ধ খাবারে...
৪৪. সুপ্রভাগ:
ফুল করে টাইপ করেছি। ওমা! ব্লকিয়ে দিলে!
আবডালে ঢালছো যখন মাছি, ছুঁইনে ওসব মথ
ঝাঁকে ঝাঁকে অধাতুরূপ ছুটে আসে আঙুলে...
আমি নিরাপদ। নিরুপায়ু।
৪৫. দাবাফল:
বিউগলে মশারি বাজলো, আয়নার হোমবাতি
দূরত্ব কীভাবে পরিচিত বেণী টেনে ধরে
আর পাতামুখী করে কোণ
ছিটকে যায় ঝলসানো ফল, প্যারাফিন কিংবা
এসবের থেকে কুঁড়ে থাকা বোটানিক্যাল
৪৬. মেঘমোল্লার:
রেডিও-সক্রিয় ঢেউ এবং তাক করলাম জলদ
কচি কচি ধুলোমাসি, অল্প নপুংসক
বপুষ্মতী পায়ে শুভরাত্রি ফরোয়ার্ড করে গ্যালো
এখন লক্ষ্য করুণ হতে পারে, রুপোলি হাতিও
৪৭. বিনিময়রা:
বালিশের এক কোণায় এসে শুই, ফোকতপ্ত
ভাবি চাল হবো, ঝাঁপিয়ে পড়ব নদীর গাঁয়ে
শরীর থুয়ে উঠে যাবে ঘুম
অসম্ভব কোনো ঝিম ছেঁকে ধরবে বিষচাক
মাথার গুমর টিনের স্তরে বাজবে : ঝুমঝুম!
৪৮. কন্ঠজ্বর:
আকন্ঠ স্মৃতি ধরে আছে এই শরীর, থাকতে দাও
অন করো ভয়েস রেকর্ডার, জ্বর ভেঙে সবচেয়ে
এতোগুলো জেন কথা
গড়বাদলের হাতে... দ্রিমদ্রিম দ্রাক্ষা নাচুক
৪৯. চেলাছাঁট:
সম্পূর্ণ নিজের খরচে একটি জোঁক
আমি পা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি...
অথবা চাদর
একটি গরমিলের অপর নাম বিউগলবিল
৫০. পাঠস্রাব:
এই সেই গাঢ় মাখা হাত, হদিশ আঁকা রুমালগাড়ি
এঁর সাথে লিকিংদৃশ্য অথবা নেবুলা সৃষ্টির তুলনা
এঁর সাথে অনূদিত খুর কিংবা ড্রপবক্স মানানসই
এঁকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করুন, কার্ব ড্রিল করুন
ফুলকি বাছার কারিগরি শেখা চমৎকার ঋতুপথ
দ্বিতীয় পর্ব পড়তে এই লেখাটির উপর ক্লিক করুন
তৃতীয় পর্ব পড়তে এই লেখাটির উপর ক্লিক করুন
চতুর্থ পর্ব পড়তে এই লেখাটির উপর ক্লিক করুন
[সমাপ্ত]
লেখকের অন্যান্য লেখা:
সৌরভ বর্ধন। কবি ও গদ্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার শান্তিপুরে জন্মগ্রহণ ও বসবাস। ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয় কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘নিজস্ব প্রতিবেদন’। এছাড়াও ‘জলবিভাজিকা’ (২০১৮) এবং 'স্তন ও হৃৎপিণ্ড' (২০১৯)। সাম্প্রতিকতম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রসূতিকালীন পাঠ’ ২০২০ সালের বইমেলায় ‘কবিতা পাক্ষিক’ থেকে প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্টেড পত্রিকায় অনিয়মিত লেখেন। লেখায় চৈতন্যপ্রাপ্তিই হলো তার উদ্দেশ্য ও বিধেয়।
0 মন্তব্যসমূহ
মন্তব্যের যাবতীয় দায়ভার মন্তব্যকারীর। সম্পাদক কোন দায় নেবে না।