ধানসূত্র
থ.
মেঘের মূরাল থেকে খসে পড়া গুচ্ছ গুচ্ছ মেঘ, তা-ই আজ বৃষ্টি সর্বনামে নেমে আসে আষাঢ়ের মাঠে। নামে কতো কতো ঘোড়া, গাধা, মহিষ আর গাভিন গরু। তারা জলের জাতক, তারা জল পরিবাহী, প্রবাহিত মাঠ থেকে মাঠে, ধানের গোছায়। এদিকে কৃষক, ধান যার ধ্যানের আশ্রম, সে হঠাৎ চেপে বসে মেঘের মূরাল থেকে নেমে আসা মহিষের পিঠে। পিঠাপিঠি ভাই তারা, তারার আলোয় কত ছুটোছুটি ছিল, স্মৃতির শৈশব জুড়ে। কতো হাল টেনে নেওয়া, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। মিলিয়ে নেয়ার এইতো সময় স্মৃতির হিসেব, আষাঢ়ের থৈথৈ মাঠে। মাঠের মহিষ তাই মেঘে চলে যায়, মেঘের মহিষ জল থৈথৈ, নেমে আসে মাঠে। পাঠে ফিরে যায় চাষি, ধান বুনবার, এই বুনো বর্ষায় ।
দ.
বিষণ্ণতা গিলে জেগে উঠলে বর্ষার মেঘ, মাথাল মাথায় বাড়ে চাষির চঞ্চলতা। চঞ্চল চাষির হৃদয়, হৃদয়ের ডাক গিয়ে মিলে মেঘের ডাকে। তাতে ডাক হরকরা, তাতে জল নেমে আসে। ভাসে বিস্তৃত মাঠ, ভাসে ধানের চারা। চাষি চারায় চরেণ, আহা মেঘ গুড়গুড়। ওরে ইলশেগুঁড়ি, শহুরে সরষে ইলিশ। চাষি চেনে না এযে, চেনে কই টুবানি। তার ধানক্ষেত জুড়ে ঘন কইয়ের জাল। জলে জাল আর কই, জালে জল থৈথৈ। চাষি ভালোবাসে জল আর ভালোবাসে জাল। চাল ভালোবাসে আর চুলো ভালোবাসে তার বউ, বর্ষার গাভিন আকাশকে স্বাক্ষী রেখে।
ধ.
গীতল, ধান বোনার গীত, হরিত সঙ্গীত, গেয়ে গেয়ে বুনে যায় ধান, ধানের দুলাল। লালপেড়ে শাড়ি পরা বউ তার, এগিয়ে দেয় ধানের চারা। দুলাল-দুলালী তারা, অপার কৃষাণ। তারা ধানের সবুজ, তারা ফসলের মাঠ, তারা দূরের গ্রহ থেকে দৃষ্টিগ্রাহ্য পৃথিবীর কৃষিপাঠ। পাঠের অধিক এক কৃষিভাষ্য রচনা করবে তারা এই মৌসুমে, বর্ষার। প্রকৃত পাঠক পাবে কি তারা! ভাবে, অপার কৃষাণ। তবু তারা রচে যাবে ধান, ঘ্রাণ নিয়ে মলিন মাটির, মাটিয়াল জুড়ে। জুড়ি বেঁধে তবু তারা গেয়েই যাবে গান, গীতল, ধান বোনা গীত, জীবনের হরিত সঙ্গীত।
আহমেদ মওদুদ। কবি ও গদ্যকার। জন্ম ১৯৮১ সালে রংপুর জেলায়। পেশায় শিক্ষক। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: ‘দুঃস্বপ্নের চিরস্থায়ী বাগানে’ (কবিতা), ‘দুঃস্বপ্নের চিরস্থায়ী বাগানে খণ্ডচিত্র’ (কবিতা), ‘ছোটদের বিদ্যাসাগর’ (শিশুতোষ), ‘কবি’ (কিশোর উপন্যাস)।
1 মন্তব্যসমূহ
কবিকে লাল সালাম
উত্তরমুছুনমন্তব্যের যাবতীয় দায়ভার মন্তব্যকারীর। সম্পাদক কোন দায় নেবে না।