১.
অথচ রোমাঞ্চকর লাউয়ের একফালি চাঁদমুখে আমাদের গ্রামীণ আঁতুড়ঘর ভেসে ওঠে নিম্নাঞ্চল চরাচর। ভেদের সূত্রমতে, কার হৃদয়ে কে গান করে কুড়িগ্রাম থেকে চিলমারী রাগেশ্রী জল। মিনাবাজার আমাদের ঘর। নিপুণ কারিগর এপথে ভুলসবিভুল এঁকেবেঁকে জড়াতে চায় আঙ্গুলের ছাপ। মহীশূর এসেছিলো, আমাদের লোকালয় ভেঙে গেয়েছিলো চর্যাপদ কিংবা সাইফুল মুল্লুক বদিউজ্জামাল।
২.
প্রয়োজনীয় লবঙ্গ কাদা মেখেছিলো এপারর্চার শৈশব। হাত গুটিয়ে গুটিকয়েক মার্বেল সারারাত কেঁদেছে ঘুমে বিভোরে। অনাকাঙ্ক্ষিত হতাহতের পর জানা হয় নি দোয়েলর নিঃসঙ্গ মায়ের কান্না। এই চিরাচরিত ফসল ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছি দুরে, হারিয়ে যাচ্ছি গভীরভাবে আমাদেরকে ফেলে।
৩.
পাঠ্যসূচি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে মনের নিষেধাজ্ঞার রাফখাতা । এ্যাইসব আবোলতাবোল শিশু কার্টুনের পা নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে অবিরত স্মৃতির মাঠ ।
৪.
এই যে জীবন নামক শব্দ কাকে দিবে কে আশ্রয়?
হারিয়ে যাচ্ছে চিৎকার
ফিরে আসছে বোবাকাক!
৫.
চলমান বাসের জানলা দিয়ে ডাকছে বড়বাড়ী। দেখলাম, লিপস্টিক ঠোঁটে চিৎকার করে অতঃপর তরুণী বলছে, পরিষ্কার হও!
শামীম সৈকত। কবি। জন্ম আর কে রোডের অদূরে: উলিপুর, কুড়িগ্রাম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন বিষয়ে স্নাতকোত্তর। প্রকাশিত কবিতাপুস্তিকা: ‘মেরুন সন্ধ্যালোকে’ (ঘোড়াউত্রা: ২০২০)।
1 মন্তব্যসমূহ
বা! অন্যরকম তো। অন্যরকম ভাল লাগল।
উত্তরমুছুনমন্তব্যের যাবতীয় দায়ভার মন্তব্যকারীর। সম্পাদক কোন দায় নেবে না।